যে জীবন পিঁপড়ের……….

জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই দেখছি, প্রতিবছরই দেখছি, বারবার দেখছি। ভবন ধসে, আগুনে পুড়ে গার্মেন্টস্ কর্মীর মৃতু্য। এতোদিনে তো এসব দেখে দেখে অভস্ত হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু আমি দূর্বল চিত্তের মানুষ বলেই হয়তো এখনো এসব দেখে কেঁপে উঠি, ঘুমের ঘোরে দুঃস্বপ্ন দেখি। সবল চিত্তের মানুষেরা এগুলোকে system loss বলে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবে, আর তারপর বলবে এদেশে garments শিল্পের ব্যপক সফলতার কথা, garments এর উপর এ দেশের অর্থনীতির ব্যপক নির্ভরতার কথা। আমরা অবাক হয়ে তাদের কথ শুনবো। আচ্ছা এ দেশে garments শিল্প এত বিস্তার লাভ করলো কেন? কেউ হয়তো বলবে এ দেশের স্বল্প শ্রম মুজুরি, স্বল্প উৎপাদন খরচের কথা। কিন্তু তাহলে চীন, ভারত, ভিয়েতনাম এসব দেশে কেন এ শিল্প এত বিস্তার লাভ করলো না। ঐসব ‘স্বল্প’ বিষয়—আশয় হয়তো কোন ব্যপার হতে পারে, কিন্তু মূল কারণ নয়। Garments এর কাপড়ের সুতা, wool ইত্যাদি fiber জাতীয় সূক্ষাতিসূক্ষ (যেগুলো কিনা চোখেও দেখা যায় না) জিনিসগুলো একজন মানুষের মুখ, নাক, কান দিয়ে শরীরের ভিতর প্রবেশ করে তার কার্যক্ষমতা ১৫-২০ বছর পর্যন্ত কমিয়ে দেয়, আর তারপর তার মৃতু্য আসে cancer বা অনান্য মরণব্যাধীর মধ্য দিয়ে। একারণেই হয়তো এ দেশে চল্লিশোর্ধ্ব garment কর্মী খুব বেশী দেখা যায় না। একজন সাদা চামড়রার অকাল মৃতু্য অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই হয়তো এ দেশে ব্যঙের ছাতার মতো যত্রতত্র garment কারখানা গড়ে উঠেছে।


Continue reading